সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতখানি উদ্বেগের?

    • Author, জান্নাতুল তানভী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

সৌদি আরবের কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নাডিক কোম্পানিতে কাজ পাবেন, এমন নিশ্চয়তায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবের রিয়াদে যান ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন।

রিয়াদে পৌঁছে সেখানে থাকা আরেকজন দালালকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন মি. হোসেন।

আরিফ হোসেনের মত এমন আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে রিয়াদে অবস্থিত দালাল একটি স্থানে থাকার জায়গা দেন।

তবে রিয়াদে যে কাজ দেওয়া হবে বলে কথা দেওয়া হয়েছিল সেই কাজ পাননি তিনি।

বেশ কিছুদিন বসে থাকার পরে মক্কায় গিয়ে অন্য কাজে যোগ দেন মি. হোসেন।

কিন্তু এরপরই সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হন তিনি।

ফলে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করলেও কিছুই আয় করতে পারেননি বলে জানান।

"নাডিকে কাজ দেয় নাই, এক মাস চইলা যায় কাজ দেয় নাই। পরে বাধ্য হইয়া মক্কায় যাই অন্য কাজ নিয়া। জুলাইয়ের চার তারিখে পুলিশ(সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ধরছিল, ১৬-১৭ দিন জেল খাটছি। এরপরে ২২শে জুলাই দেশে আসছি" বলেন আরিফ হোসেন।

তবে, শুধু মি. হোসেনই নয় এই তালিকায় আরো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন।

দেশটিতে গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠিয়েছে বলে ওই সময় প্রকাশিত গালফ নিউজের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে, জুন মাস থেকে চলা এসব অভিযানে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আর সবশেষ ২৩ থেকে ২৯শে জুলাই এই অভিযানে সাড়ে বারো হাজারের বেশি প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

যদিও সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিযুক্ত কনসুলার (শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন বলছেন, নিয়ম-কানুন ভঙ্গ না করলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আতঙ্কের কিছু নেই। এক কাজের জন্য গিয়ে অন্য কাজ করার মতো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়। যারা এসব বিষয়ে সচেতন থাকবেন তাদের ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান নিয়মিত অভিযানেরই অংশ বলেও উল্লেখ করেন মি. সালেকিন।

অভিযান নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগের কারণ আছে কী?

গালফ নিউজের তথ্য বলছে, গত ২৩শে জুলাই থেকে ২৯শে জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানে ১২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব।

একইসঙ্গে, ১৪ হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর মধ্যে, আবাসন আইন ভঙ্গের অপরাধে সাত হাজার ১০৩, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন হাজার ৩৯৭ জন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযোগে তিন হাজার ৬৫৪ জনকে এই অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সৌদি আরবের মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে ৩০ হাজার ৬৭৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে ভ্রমণের কাগজপত্রের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৪২৪ জন দেশ ছাড়ার আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, কেউ যদি অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে চায়, পরিবহন করা বা নিয়ম ভঙ্গকারীদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

একইসঙ্গে, ১০ লাখ রিয়েল বা প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।

এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জনসম্মুখে নাম প্রকাশের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি আরব।

তবে, ওই সাড়ে বারো হাজারের মধ্যে কত সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই অভিযানের তথ্য সর্বশেষ তথ্য হলেও গালফ নিউজের সংবাদ ঘেঁটে দেখা যায়, এই দফার অভিযান শুরু হয়েছে আঠারোই জুন থেকে ২৪শে জুন।

সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাই মাসে দুই দফায় অভিযান চালায়।

এর মধ্যে ১৬ থেকে ২২শে জুলাই এবং ২৩ থেকে ২৯শে জুলাই সবশেষ অভিযানে দেশটির আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, সাতই মে থেকে ১৩ই মে এক সপ্তাহব্যাপী সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ১১ হাজার ২৭২ অবৈধ প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল নিযুক্ত কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, গত সপ্তাহের সর্বশেষ এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে চার হাজার বাংলাদেশি জেদ্দার তারহিলের সফর জেলে রয়েছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরার জন্য সেখানে রয়েছেন তারা।

এছাড়া আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশটির কারাগারে রয়েছেন।

তবে, তাদের প্রত্যেকেই যে জুন থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন সেটি নয়। এই গ্রেফতারকৃত ও সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এই সময়ের আগের প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে মি. সালেকিন বলছেন, সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান একটি নিয়মিত ঘটনা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হজ মৌসুমসহ সামগ্রিক প্রেক্ষাপট মনিটরিং করে সৌদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মি. সালেকিন বলেন, "এটা একটা রেগুলার প্রসেসে চলতে থাকে। হজ্জের সময় এটা খুব কঠোরভাবে চেক করা হয়। হজ ছাড়া অন্যান্য সময় অন্যান্য দেশের পারস্পরিক বিষয়ের সাথে রিলেট করে অভিযান পরিচালনা হয়।"

তিনি বলছেন, নানা ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি আরব।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটি নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট করলেও সেটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং সৌদি আরব বিষয়টি মনিটরিং করে বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যে, এক কাজের কথা বলে অন্য কাজে নিযুক্ত হওয়া, এক স্থানের কথা বলে অন্য স্থানে অবস্থান করা, যে মেয়াদে কাজের জন্য গিয়েছেন সেই সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া অথবা সড়কে বা ফুটপাতে হকার হিসেবে পণ্য বিক্রি করা এমন নানা কারণে যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযানে তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে জানান মি. সালেকিন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "এটা একটা নরমাল প্রসিডিউর। এখানকার কিছু রুলস আছে। আপনি যেই কাজে আসছেন সেই কাজেই থাকতে হবে। দেখা যাচ্ছে আপনি আসছেন এক কাজে এসে আপনি এখানে বিজনেস করছেন।"

"এক জায়গার ইকামা নিয়ে আরেক জায়গায় কাজ করা যায় না, ধরুন, একজনের ইকামাতে জব লোকেশনটা রিয়াদ কিন্তু তিনি জেদ্দা বা মক্কায় আছেন এক্ষেত্রে রেসিডেন্স ভায়োলেশন হয়। অর্থাৎ যখন ইকামার সাথে আপনার ন্যাচার অফ ওয়ার্কের কনক্লুয়েন্সি বা চূড়ান্ত রূপ পাওয়া যাচ্ছে না তখন অভিযানে ধরছেন ওনারা" বলেন তিনি।

সাধারণত এসব কারণেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া, অভিযানে "গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার পর যখন তিনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেন উনার নামে যদি কোনো মামলা হয় বিশেষ করে আর্থিক মামলা হয় তখন ওনার ট্রাভেল ব্যানড করে রাখা হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ট্রাভেল ব্যানের টাকা পরিশোধ করা না যায় ততক্ষণ উনি নিজ দেশে যেতে পারেন না" বলেন কনসুলার মি. সালেকিন।

গত ২৮শে মে থেকে দোসরা জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে হজ্জ ফেরত ফ্লাইট শিডিউল ছিল। সে সময় ফ্লাইট স্বল্পতায় যারা বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি তারাও সেখানে অবস্থান করেছেন জুলাইয়ে অভিযানের ওই সময়ে।

সেইসব বাংলাদেশিদের দেশে পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনটি বাড়তি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিল।

জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিয়োজিত কনসু্লার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, ২৬ ও ২৭শে জুলাই প্রায় ষোলো-সতেরোশো জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি আবাসন, চাকরি বা সৌদি আরবের বিভিন্ন আইন ভঙ্গ করেছেন জুলাইয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কেবল তাদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান এই কনসুলার।

সৌদি আরবের রুলস-রেগুলেশনস মেনে চললে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আতঙ্কের কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন জেদ্দায় নিয়োজিত কনসুলার মি. সালেকিন।

"ওনারা যদি সৌদি রুলস, রেগুলেশনস মেনে চলেন এবং ওনারা যে যেখানে কাজে আছেন সেখানে ঠিকমতো কাজ করেন রুলস ভায়োলেশন না করেন তাহলে ইনশাল্লাহ কোনো ভয়ের কিছু নেই" বলেন কনসুলার মি. সালেকিন।

সৌদি আরবে প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এখন বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, "এখনো সৌদি আরবের শ্রম বাজার বাংলাদেশি লেবার মার্কেটের ওপর অনেকটাই ডিপেন্ডেন্ড।"

এ কারণেই সৌদি আরবে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কাউকে সাহায্য না করার মতো ঘটনার বিষয়ে আরো সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন জেদ্দা কনসুলেটের কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অবস্থা কী?

সত্তরের দশক থেকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব।

বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গিয়েছেন। যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষই সৌদি আরবে গেছেন।

২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, এই সংখ্যা চব্বিশ সালের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে গতবছর।

অর্থাৎ সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গত বছর কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে গিয়েছে।

আর ২০২৪ সালে প্রায় ছয় লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়েছে।

কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে এক বছরে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবই সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে কাতার, দেশটিতে গত বছর এক লাখ ৪৭২ হাজার কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর যেখানে ৭০ হাজার ৫৬ জন এবং কুয়েতে ৭২ হাজার ৭১৭ জনকে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য সৌদি আরবে পাঠানো কর্মী সংস্থার তুলনায় অন্যান্য দেশে এই হার খুবই কম।

এ বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৫ লাখ প্রবাসীর প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান বাংলাদেশে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের আগের রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথমবারের মতো দেশের রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল বলে এই বছরের পাঁচই জানুয়ারি প্রকাশিত বাসসের এক খবরে বলা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

যেটি দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস।

এই চুক্তির ফলে কর্মীদের সুরক্ষা, বেতন পরিশোধ, কল্যাণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে।

নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকা বলছে, এখন 'তাকামোল' যাচাইকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ কর্মী নিয়োগের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব।

একইসঙ্গে, সৌদি আরবের বিশেষ "ভিশন ২০৩০" প্রকল্পের অধীনে খনি ও নির্মাণ খাতে নতুন করে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এই খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৬ সালে নতুন একটি কর্মসংস্থান চুক্তির আওতায় আরো তিন লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।