মসজিদ ভাঙা নিয়ে কী হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে?

    • Author, নওলা খওজা
    • Role, বিবিসি সংবাদদাতা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৮ মিনিট

"এটা একটা পুরোনো মসজিদ ছিল। আমি আমার দাদাকে সেখানে নামাজ পড়তে দেখেছি। আমার বাবাও ওখানে নামাজ পড়তেন। আমিও সেখানে গিয়েছি। আজও মাঝে মাঝে আমরা সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ি, এমনকি জুমার নামাজও পড়েছি।"

বলছিলেন উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের বাসিন্দা শরিফ আহমেদ।

সাহারানপুরের কালেক্টরেট অফিস সংলগ্ন এলাকায় থাকেন তিনি। এই কালেক্টরেট কমপ্লেক্সেই অবস্থিত একটা পুরানো মসজিদ গত পাঁচই সেপ্টেম্বর প্রশাসনের উদ্যোগে ভেঙে ফেলা হয়।

মুসলিম পক্ষের দাবি যে এই মসজিদ একশো বছরেরও বেশি পুরোনো। আবার প্রশাসনের দাবি, ওই মসজিদ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শরিফ আহমেদের প্রতিবেশী অমিত ট্যান্ডন অবশ্য এই সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে। তার কথায়, "এখানে যা হয়েছে তা একেবারেই ঠিক নয় এবং সেটা আমরাও অনুভব করেছি। এখানকার সব পরিবারই আমাদের নিজের মতো। আমরা এর বিরুদ্ধে।"

মসজিদ ভেঙে ফেলার পর এখন ওই জায়গায় ব্যারিকেড দেওয়া রয়েছে। সেই ব্যারিকেড পেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি আমাদের দেওয়া হয়নি।

কী হয়েছিল?

কালেক্টরেট কমপ্লেক্সের ওই মসজিদ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত উত্তর প্রদেশে বজরং দলের সাবেক আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগীর অভিযোগকে ঘিরে।

গত বছর ২৪শে মার্চ, 'দ্য উত্তর প্রদেশ পাবলিক প্রেমিসেস (এভিকশন অব আনঅথোরাইজড অক্যুপ্যান্টস) অ্যাক্ট' বা 'উত্তর প্রদেশ সরকারি প্রাঙ্গণ (অননুমোদিত দখলদারদের উচ্ছেদ) আইনের' অধীনে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘ শুনানির পর চলতি বছরের ১৭ই জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেট ওই মসজিদকে অবৈধ স্থাপনা বলে ঘোষণা করেন এবং জমি দখলমুক্ত করার আদেশ দেন।

মসজিদের পক্ষ থেকে এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। প্রায় দেড় মাস শুনানির পর, জেলা জজের আদালত গত দোসরা সেপ্টেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশই বহাল রাখে।

কিন্তু এখানে যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা উঠছে তা হলো, আদালত কি এই মসজিদ ভেঙে ফেলার সুস্পষ্ট আদেশ দিয়েছে না কি শুধু জমি দখলমুক্ত করার আদেশ?

এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

আদালতের আদেশ ও নোটিশের বিষয়টা বোঝার জন্য আমরা বিভিন্ন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি।

এই মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ আইনজীবী পারভেজ জব্বারের কথায়, "দখলমুক্ত করার আদেশ ছিল, ভাঙার নয়। এত তাড়া কীসের ছিল যে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনই এই পদক্ষেপ নিতে হলো?"

তিনি বলেন, "নোটিশ পাওয়ার পরে যদি পুরো আইনি প্রক্রিয়া মানতে হয়, তাহলে আমাদের আরো ১৮ দিন সময় পাওয়া উচিত ছিল।"

আইনজীবীদের মতে, আদেশ মূলত জমি দখলমুক্ত করার বিষয়ে ছিল। পাশাপাশি নোটিশের পর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে ফেলা হয়।

মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক তানভীর আহমেদ বলেন, "ধরুন যদি দখলমুক্ত করাতেই চাইতেন তাহলে তারা সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতেন। সেখানে একটা জেনারেটর রাখা ছিল, আমরা বের করে নিতাম। কোরআন ছিল, সেগুলো অন্যত্র রাখতে পারতাম। সেখানে নামাজ পড়ার জন্য চাটাই ছিল, সেগুলো বের করে আনা যেত। এমন কত জিনিস থাকে।"

আইনজীবী নওশাদ আলী ব্যাখ্যা করেছেন, "দখলমুক্ত করার কাজ ৩০ দিন পরও করা যেত। কিন্তু তার আগে তারা সেই প্রক্রিয়া শেষ করেনি। তা না করে সোজা গিয়ে দু'দিকের গেট বন্ধ করে, গোটা চত্বর সিল করে কাঠামো ভেঙে দিয়েছে।"

প্রশাসনের তরফে যা বলা হচ্ছে

আমরা আমাদের প্রশ্ন নিয়ে জেলা শাসকের অফিসেও পৌঁছেছিলাম। সেখানে আমাদের জানানো হয়েছিল যে ডিআইজি সাহারানপুর ইতোমধ্যে এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি দিয়েছেন এবং বিষয়টা এখন এলাহাবাদ হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

সাহারানপুরের ডিআইজি অভিষেক সিং গত পাঁচই সেপ্টেম্বর বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, "আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার সময়ে সমস্ত আইনি বিধান এবং আইনি পদ্ধতি মেনেছি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষ থেকে ওই নির্মাণ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে করা হয়েছে বলে রায় দিয়েছিল। মসজিদ কমিটির আবেদনও খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।"

অর্থাৎ একদিকে, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করার পরই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মসজিদের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, যে আদেশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেখানে দখলদারমুক্ত করা ও ইমারত ভাঙার সম্পর্ক কোথায়?

এই বিষয়ে উত্তর পেতে হলে হাই কোর্টে চলমান শুনানি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ইতিহাস কী বলছে?

প্রশাসনের তরফে ওই মসজিদ ভেঙে ফেলার পর তার ধ্বংসাবশেষও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সেই অবশেষ এখন শহর থেকে কিছুটা দূরে আম্বালা রোডের একপাশে পড়ে রয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নামাজের মাদুর, একটা টুপি, কিছু ছেঁড়া পৃষ্ঠা, ধর্মীয় মালা, সাদা কুর্তা-পায়জামা এবং অন্যান্য পোশাক যা সম্ভবত মসজিদের ইমাম বা তত্ত্বাবধায়কের ছিল, তার দেখা মিলেছে।

ধ্বংসস্তূপের কিছু ইটের উপর ১৯০৬, ১৯০৯, ১৯১১ এবং ১৯১৩ সালের উল্লেখ রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক স্থানীয় ব্যক্তি আমাদের বলেছিলেন, "মসজিদ এখন অবশিষ্ট নেই। আমরা শুধু তার চিহ্ন সংগ্রহ করতে চাই, এমনকি সেটা যদি পুরোনো ইট হয় তাও নিজের কাছে রেখে দিতে চাই।"

আরেক ব্যক্তির কথায়, "ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কোরআন শরিফ ছিল। আমরা সেগুলো বাড়িতে নিয়ে গিয়েছি আর কিছু কবরস্থানে দাফন করেছি।"

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ইটের উপর লেখা সাল ইঙ্গিত দেয় যে ওই ইমারত কত প্রাচীন।

কিন্তু ইটের উপর লেখা দেখেই কি মসজিদের বয়স নির্ণয় করা সম্ভব?

এই প্রশ্নের উত্তরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ অধ্যাপক নাদিম রিজভি বলছিলেন, "সেই সময়ে ইটের উপর নির্মাণের সাল উল্লেখ করাটা অস্বাভাবিক বিষয় ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র এই সংখ্যার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় যে ওই মসজিদও একই সময়ে নির্মাণ করা হয়েছে।"

তার মতে, এমন হতেই পারে যে এই ইট যে সময় তৈরি হয়েছিল তারপর মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। কিংবা পুরানো কোনো ভবনের ইটও মসজিদ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

অধ্যাপক রিজভী বলেন, "একটা ভবন কত পুরোনো তা পরীক্ষা করতে ইটের আকার, গঠন এবং গাঁথুনির জন্য ব্যবহৃত মশলা পরীক্ষা করা আরো বেশি সাহায্য করতে পারে।"

আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর টিম জরিপ করে মসজিদের জায়গায় একটা কুয়োর মতো কাঠামোও খুঁজে পেয়েছে।

এএসআই-এ কর্মকর্তা মনোজ যাদবের মতে, "সমীক্ষার সময়ে সেখানে লাখোরি ইট পাওয়া গেছে। এই ইটের আকার প্রায় ২০×১০×৫ সেন্টিমিটার এবং সেগুলো গাঁথার জন্য চুন-সুরকির মতো উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।"

তার মতে, মধ্যযুগ থেকে ২০-র শতকের গোড়ার দিকে উত্তর-মধ্য গাঙ্গেয় উপত্যকায় এই ধরনের ইট এবং চুন-সুরকির ব্যবহার দেখা যায়।

স্থানীয়রা যা বলছেন

ওই ভবনের নির্মাণ সম্পর্কে জানতে আমরা স্থানীয়, পুরোনো বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। মসজিদের বয়স এবং জমির মালিকানা বোঝার জন্য যে সমস্ত নথি রয়েছে, তাও দেখেছি।

স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরা এলাকার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আমরা আশেপাশের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা জানার চেষ্টাও করেছি।

এই ইমারত ১৯৪৭ সালের আগেও বিদ্যমান ছিল বলে দাবি করা হয়।

এ নিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নও উঠছে। উপাসনালয় (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪ (১)-তে উল্লেখ করা হয়েছে প্রত্যেক উপাসনালয়ের ধর্মীয় পরিচয় বা বৈশিষ্ট্য ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট যেমন ছিল, ঠিক তেমনই থাকবে।

কিন্তু এই বিধানের অর্থ এই নয় যে কোনো ধর্মীয় স্থানের জমির মালিকানা, নির্মাণের বৈধতা বা সরকারি জমির দখল নিয়ে সিদ্ধান্তও সেই আইন অনুযায়ীই নেওয়া হবে। সুতরাং এই ক্ষেত্রে দুটো আলাদা আলাদা প্রশ্ন উঠছে।

প্রথমত, এখানে ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট কি মসজিদ ছিল? দ্বিতীয় প্রশ্ন ওই জমির বৈধ মালিক কে?

এই দুটো প্রশ্নের উত্তর পেতে আমরা পুরোনো জমির রেকর্ডও দেখেছি।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মি. আবিদ বলেন, "এই মসজিদ শত শত বছরের পুরোনো। যখন এখানে আদালত ছিল না, সেই সময়ে ভারত স্বাধীনও হয়নি। এটা ব্রিটিশ আমলের মসজিদ।"

তার প্রতিবেশী পবন রাণা বলেন, "যদি অবৈধ হয়, তাহলেও তো উপায় আছে। হঠাৎ ভেঙে দেওয়া হলো- এর কোনো অর্থ আছে না কি? এর সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ জড়িয়ে ছিল। এত তাড়াহুড়ো করে একটা পুরোনো ইমারত ভেঙে ফেলা হলো। এর আগে কখনো কোনো বিতর্কের কথা শুনিনি। হঠাৎ, দেড় মাসের মধ্যে, পুরো ব্যাপারটা সম্পন্ন হয়ে গেল।"

আইনজীবী নওশাদ আলী বলেন, "আজ পর্যন্ত সরকারের মালিকানার কোনো কাগজপত্র নেই। রাজস্ব রেকর্ডে থাকা জমিদার ওয়াহিদ খান এবং ইয়াকুব খানের নাম এখনো খসড়া নং ৫৩৯ তে নথিভুক্ত করা আছে। সেখানে একটা কালেক্টরেট, আদালত এবং মসজিদ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।"

যাইহোক, আমরা যখন উত্তর প্রদেশের পোর্টাল থেকে জানার চেষ্টা করি তখন খসড়া নং ৫৩৯-এর রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

ওয়াকফ রেজিস্ট্রেশন, পোস্ট অফিসকে ইজারা

নওশাদ আলী বলেছেন, "১৯৫৫ সালে এটা ওয়াকফ বোর্ডে নিবন্ধিত হয়েছিল। ওয়াকফ বোর্ডে শুধু শুধু রেজিস্ট্রেশন করা যায় না। সম্পূর্ণ জরিপ হয়েছে, সম্পত্তির মালিক কে, কারা দান করেছে তার রেকর্ড রয়েছে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের ডাক বিভাগ ১৯৬০ সালে এই সম্পত্তির অন্তর্গত দুটো ঘর ভাড়া নিয়েছিল। সেখানে একটা পোস্ট অফিস ছিল।"

তিনি বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার এবং মসজিদের মধ্যে ইজারা নিয়ে চুক্তি ছিল। সেই সময়ে নিশ্চয়ই তারা মালিকানার নথি খতিয়ে দেখেছিল এবং তারপরই তারা ইজারা সংক্রান্ত চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তি আজও বহাল রয়েছে।"

আমরা ওয়াকফ নথি পরীক্ষা করেছি। সেখানে এই সম্পত্তি সম্পর্কিত রেকর্ড মজুদ রয়েছে।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ তফাত রয়েছে- ওয়াকফে কোনো সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন এবং সেই সম্পত্তির মূল মালিকানা কিন্তু এক বিষয় নয়। তাই ওয়াকফ রেকর্ডের পাশাপাশি মূল রাজস্ব রেকর্ড এবং এই জমির নামে থাকা নথিও খতিয়ে দেখা দরকার।

বিরোধী নেতাদের বক্তব্য

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও মিলেছে। উত্তর প্রদেশের কৈরানার সংসদ সদস্য ইকরা হাসান, সাবেক বিধায়ক ও কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অজয় রাই এবং সাহারানপুরের বিধায়ক শাহনওয়াজ খান দাবি করেছেন, তারা যখন এই স্থান পরিদর্শনের জন্য যেতে চেয়েছিলেন, তখন তাদের গৃহবন্দি করা হয়।

সাহারানপুরের বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা রাজীব গুম্বার জানিয়েছেন, বিষয়টা আদালতে গিয়েছিল এবং আদালত সেই নির্মাণ সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ হিসাবে বিবেচনা করেছে। তার মতে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান মাসুদের দাবি, "সিটি ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছেন তা সবকিছু উপেক্ষা করে করা হয়েছে। তারা কোনো নিয়ম, কোনো আইন মানেননি।"

"সম্ভালে কী ঘটেছিল? সম্ভালে পুলিশ গুলি চালায়, পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং সেই পাঁচজনের হত্যাকারীর পরিচয় জানা যায়নি। এই সবই একটা এজেন্ডা মেনে করা হয়েছে। এইভাবে মসজিদ, মন্দির বা উপাসনালয় ভেঙে ফেলা কোনো অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত নয়।"

এখনো যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে

কালেক্টরেট কমপ্লেক্স, যেখানে একসময়ে ওই মসজিদ ছিল সেখানে এখন ফাঁকা জায়গা। এখন ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা রয়েছে ওই জায়গাটা। একদিকে প্রশাসন বলছে, সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ওই কাঠামো অননুমোদিত ছিল এবং আইনি প্রক্রিয়ার পর তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে, মসজিদ কমিটি দাবি করেছে যে সেখানে যে মসজিদ ছিল সেটা ১০০ বছরেরও বেশি পুরানো। ওই জমি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছিল এবং ওয়াকফ রেকর্ডেও তার উল্লেখ রয়েছে।

এসবের মাঝে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো রয়ে গিয়েছে।

খসড়া নং ৫৩৯-এর জমির আসল মালিক কে ছিলেন? ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট এই জায়গায় কি মসজিদ ছিল? মসজিদের বয়স এবং জমির মালিকানা প্রমাণ করে এমন প্রাচীনতম দলিল কী রয়েছে? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো ভেঙে ফেলার আগে আইনে উল্লেখ করা পুরো প্রক্রিয়া কি মেনেছিল প্রশাসন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো দাবির উপর নির্ভর করে পাওয়া সম্ভব নয়। মূল জমির রেকর্ড, ওয়াকফ নথি, প্রশাসনিক আদেশ, তদন্ত এবং আদালতের শুনানির উপর ভিত্তি করেই উত্তর মিলতে পারে।

বর্তমানে, এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে প্রতিক্রিয়া চেয়েছে এবং ছয় কোটি ৫১ লাখ টাকারও বেশি পুনরুদ্ধার করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ই অক্টোবর হওয়ার কথা।