হিন্দুদের বেনামী চিঠি: মাগুরায় ধর্মানুভূতিতে আঘাতের মামলা

Published

মাগুরায় কয়েকটি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ জনকে বেনামী চিঠির মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

যারা চিঠি পেয়েছেন তাদের মধ্য থেকে একজন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মি. আহমেদ বলেন, মামলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মোট ২১ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে মাগুরার শ্রীপুর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা নাসরীন এক নির্দেশনায়, এ ঘটনায় পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চায়। আগামী ২৩শে মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ১৯শে মার্চ চর গোয়ালদাহ গ্রামের ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িতে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

আসামীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেল এবং বাইসাইকেলে করে গিয়ে চিঠি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিতরণ করে। তবে ওই চিঠিতে কোন ধরণের নাম উল্লেখ ছিল না।

এ ঘটনায় ওই এলাকার হিন্দু বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। আর সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানায় প্রশাসন।

প্রথমে মনে কষ্ট পাই, তারপরে ভয় পাই:

চিঠি যারা পেয়েছেন তাদের একজন শ্রীপুর উপজেলার চরগোয়ালদাহ গ্রামের মাধ্যমিক শিক্ষক নির্মল কুমার সরকার।

বিবিসিকে তিনি বলছিলেন, চিঠি পাওয়ার পর "প্রথমে মনে কষ্ট পেয়েছি, তারপর ভয় পেয়েছি, তারপর উৎকণ্ঠিত হয়েছি"।

তিনি বলছিলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ছোট ভাইয়ের বউয়ের কাছে কেউ একজন চিঠিটি দিয়ে যান। প্রথমে ব্যাপারটা চেপে গিয়েছিলেন তিনি। অন্য কেউও বিষয়টি সামনে আনেননি।

"আমরা হিন্দু সম্প্রদায় তো, এমনিতেই মানসিক উৎকণ্ঠায় থাকি", বলছিলেন মি. সরকার।

পরে অবশ্য তিনিই স্থানীয় মন্দিরে একটি সভা ডেকে ব্যাপারটি উত্থাপন করেন। তারপর একে একে বাকিরাও চিঠি পাওয়ার কথা জানান।

পরে এই খবরটি স্থানীয় প্রশাসনের কানে গেলে তারা হস্তক্ষেপ করেন।

কী ঘটেছিল?

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মি. কবীর জানান, যারা চিঠি বিতরণ করেছে তারা ইয়াকুব নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি ছোট মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, তারা তাদের ভাষায় 'ঈমানী দায়িত্ব' পালনের অংশ হিসেবে ১০০ জন অমুসলিমকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এর জন্য তারা তিন জন করে ২১ জনের মোট ৭টি দল গঠন করেন, যারা চিঠি বিতরণের কাজ করবে।

মোট দুই পাতার এই চিঠিতে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত হাতে লিখে কপি করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন:

"সেই সাথে চিঠিতে তাদের নিজেদের কিছু কথা আছে এবং তারা একটি উপসংহার টেনেছেন যে, আপনারা এসব বিধর্মী পথ ছেড়ে শান্তির পথে আসুন।"

চিঠিটি বেনামী এবং কারা পাঠিয়েছেন তাদের কোন নাম উল্লেখ করা নেই। তবে চিঠির শুরুতে লেখা রয়েছে, "মুসলিম জামাতের পক্ষ থেকে"। এটির পর বিভিন্ন প্রাপকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে জানান তিনি।

মি. কবীর বলেন, চিঠিটি তারা পড়েছেন এবং এতে কোন ভীতিকর কোন বিষয় তারা দেখেননি। কাউকে কোন ধরণের হুমকিও দেয়া হয়নি।

"চিঠিটি যাদের দেয়া হয়েছে, দেয়ার সময় তাদের কাউকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়নি," বলেন মি. কবীর।

বিবিসি বাংলার আরো খবর: