ভারতে 'এআই চশমা' বিক্রির হিড়িক, কিন্তু দেশের আইন কী বলছে?

    • Author, প্রচেতা পাঁজা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

এত দিন চশমা কেবল দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মানুষদের দেখতে সাহায্য করত। অনেকেই রোদ থেকে বাঁচার জন্য রোদ চশমাও ব্যবহার করতেন। তবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চশমা কেবল দেখার কাজে নয়, গান শোনা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে শুরু করে মানুষ চিনতেও সাহায্য করছে।

মেটার নতুন এআই গ্লাস বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চশমা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান সংশয়। এমনকি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

মেটা এআই গ্লাস এক ধরনের অত্যাধুনিক স্মার্ট চশমা, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ রয়েছে। মেটা এবং রে-ব্যান যৌথ উদ্যোগে তৈরি করেছে মেটা এআই গ্লাস। বর্তমানে রিলায়েন্স, স্যামসাং-য়ের মত সংস্থাও এই উদ্যোগে সামিল হতে চাইছে।

এই চশমায় সাধারণত আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে যার সাহায্যে হাই রেজলিউশন ছবি তোলা যায়। ফেস রেকগনিশনের বিশেষ ব্যবস্থাও কিছু কিছু ক্ষেত্রে থাকে। যার সাহায্যে কোনও মানুষের ছবি তুলে তার সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পেতে সাহায্য করতে পারে এআই। এছাড়াও ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে এআইয়ের সঙ্গে কথা বলা যায়, তার থেকে যে কোনও পরামর্শ নেওয়া যায়।

এই ধরনের চশমায় ওপেন-ইয়ার ব্লুটুথ স্পিকার ও একাধিক মাইক্রোফোন রয়েছে, গান শোনা ও কল রিসিভ করা যায়। একবার চার্জ দিলে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই চশমা ব্যবহার করা যায় বলে দাবি বিভিন্ন সংস্থার।

এই চশমার সবথেকে বড় সুবিধা হল, হাত ব্যবহার না করেই শুধু ভয়েস কমান্ড বা ইশারায় ছবি তোলা, ভিডিও করা, লাইভ স্ট্রিমিং করা এবং মেসেজ বা কল আদান-প্রদান করা সম্ভব। যা অনেক ক্ষেত্রেই সামনে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

সম্প্রতি দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এই মেটা এআই গ্লাস ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি সেখানে আন্দোলনকারীদের ভিডিও এই চশমার মাধ্যমে তুলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করার অভিযোগও রয়েছে।

এই চশমার শিকার যারা..

বিবিসি এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে যারা জানিয়েছেন যে, এই চশমা ব্যবহার করে অজান্তে তাদের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সব পোস্টে তারা লাগাতার ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার ৩৫ বছর বয়সী একজন কলেজ শিক্ষিকা বিদিশা। তিনি শুধু একটি নামই ব্যবহার করেন।

বিদিশার অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে এই ধরনের ঘটনায় ভারতে এটিই প্রথম কোনও পুলিশি মামলা।

বিদিশার সঙ্গে কী ঘটেছিল?

তিনি জানিয়েছেন, ১১ই জুন সন্ধ্যায় শহরের একটি স্বল্প-আলোকিত রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় এক ব্যক্তি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। সে প্রথমে বিদিশার প্রশংসা করে, তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের খোঁজ জানতে চায় এবং তার সঙ্গে কথা বলার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে। বিদিশা কোনো আগ্রহ না দেখালেও লোকটি তাকে অনুসরণ করতে থাকে।

বিদিশা বিবিসিকে বলেন, "তার হাতে এমন কোনো ক্যামেরা বা অন্য কোনো যন্ত্র আমি দেখিনি যা দেখে মনে হতে পারে যে সে কিছু রেকর্ড করছে।"

পরের দিন বিদিশার এক শিক্ষার্থী তাকে জানায় যে, সেই রাতের ঘটনার ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিদিশা তখন বুঝতে পারেন যে, লোকটি গোপনে তাদের পুরো কথোপকথন রেকর্ড করে নিয়েছিল। পরে ভিডিওটি এমনভাবে এডিট করা হয়েছে যাতে মনে হয়েছে বিদিশা স্বেচ্ছায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

সেই ভিডিওর কমেন্টে অনেক পুরুষ বিদিশার শারীরিক গঠন ও বাহ্যিক রূপ নিয়ে নানা কু-মন্তব্য করেছেন। বন্ধুদের কাছ থেকেই বিদিশা জানতে পারেন যে, ওই ব্যক্তিটি একটি 'স্মার্ট গ্লাস' বা বিশেষ প্রযুক্তির চশমা পরেছিলেন।

অগাস্ট মাসে জনসমক্ষে আরেকজন তরুণ হাতে ফোন নিয়ে বিদিশার দিকে এগিয়ে আসে। আবারও গোপনে তার ভিডিয়ো তুলতে পারে এই আশঙ্কায় বিদিশা তাকে এড়িয়ে যান। এরপর তিনি পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে তার অভিযোগ পুলিশ প্রথমে এফআইআর দায়ের করতে চায়নি।

বেশ কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর, অবশেষে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে পথ আটকে দেওয়া, গোপনে নজরদারি বা পিছু নেওয়া এবং 'স্টকিং'-এর মতো অভিযোগ আনা হয়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, এফআইআর দায়ের করার কয়েক দিন পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে একদিন পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল, এরপর বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে জামিনে ওই ব্যক্তি মুক্তিও পেয়ে যান।

দিল্লিতে ২৯ বছর বয়সী একজন ট্রান্সজেন্ডারও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছিল এপ্রিলে। 'ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬'-এর বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে 'স্কাই' নামের ওই ব্যক্তি দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন। সেখানে তার অজান্তে তার ভিডিও তুলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়।

ভারতে বিপুল চাহিদা, সাধারণ চশমার তুলনায় দাম বহুগুণ

ভারতের বাজারে এখন এই মেটা চশমার জেনারেশন এক ও দুই- দুটো ভার্সানই পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনে বিভিন্ন সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ভারতে জেনারেশন ২-এর এই চশমার দাম ৩৯,৯০০ টাকা থেকে শুরু। ফ্রেম সমেত চশমা ৪৫,৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে জেনারেশন-১ এখন ছাড় সমেত ২২০০০-২৭০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

মেটা ইন্ডিয়ার তরফে ভারতের বাজার সম্পর্কে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই ভারতে এখনও পর্যন্ত এই চশমা কত জোড়া বিক্রি হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও বিভিন্ন শহরে খোঁজ নিলে দেখা যাচ্ছে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই সহ দেশের বিভিন্ন শহরে অফলাইনে অর্থাৎ দোকানে দোকানে দুটি জেনারেশনের চশমারই যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

ফলে নির্ভরযোগ্য সংখ্যা দেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না।

তবে অনলাইনে বহু মানুষ এই চশমা ব্যবহার করে তাদের রিভিউ জানিয়েছেন। যার থেকে বোঝা যাচ্ছে ভারতের বাজারে মেটার এই চশমার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

'এই চশমা ব্যবহারে বিপদ অনেক'

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ অরিজিৎ মুখার্জী বিবিসিকে জানিয়েছেন এধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করার মত প্রযুক্তি এখনও নেই। এই চশমার সব থেকে বড় সমস্যা হল এটি একেবারে সাধারণ চশমার মত দেখতে।

তার মধ্যে যে এলইডি আলো রেকডিংয়ের সময় জ্বলে তা অতি সামান্য এবং দিনের আলোয় প্রায় চোখে না পড়ার মতোই। এমনকি অনলাইনে একধরনের স্টিকার পাওয়া যায় যা রের্কডিং শুরু করার পর ওই আলোর ওপরে লাগিয়ে দিলে আলো দেখা যায় না।

যদিও মেটার দাবি এই আলো রেকডিং করার সময় জ্বলতে থাকে, তবে তা বন্ধ করার উপায়ও বিশেষজ্ঞরা ছয় মাস আগেই জানতে পেরেছেন বলে জানান মি. মুখার্জী।

মেটা ক্রেতা সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক দাবি করলেও মি মুখার্জী বলেন, মেটা এআইকে ট্রেনিং দেওয়ার জন্য যে সব ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে, সেখানে এই চশমার মাধ্যমে তোলা একাধিক ব্যক্তিগত ভিডিও অনেকের অজান্তেই থেকে যাচ্ছে।

মেটা অস্বীকার করলেও এমন অনেক প্রমাণ একাধিক বিজ্ঞানী পেয়েছেন।

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ কিঞ্জল কান্তি ঘোষের মতে এই চশমা সাধারণ মানুষের কোনো কাজে লাগে না। বরং এর অপকার বেশি, তাই সরকারের উচিত নজরদারি বাড়ানো এবং ভারতে এর ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা।

তিনি বিবিসিকে জানান, "কারও অজান্তে তার ছবি তুলে নেওয়া বা তার সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সাইবার থ্রেট তো বটেই। এই চশমা দিয়ে যে ছবি উঠছে তা যিনি তুলছেন কেবল তার কাছেই নয়, যেহেতু এই চশমা মেটার তৈরি তাই সেই ছবি মেটার কাছেও সংরক্ষিত থাকছে।"

এই চশমা ব্যবহারে বড় বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

তার মতে, "ভিআইপিদের উপস্থিতিতে কোনও অনুষ্ঠানে কেউ যদি এই চশমা দিয়ে সমস্ত কিছু রেকর্ড করে, তা অপব্যবহার করতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি হতে বাধ্য।"

"ফেস রেকগনিশন করে কারও পাসওয়ার্ড হ্যাক করে তার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়াও খুব সহজে সম্ভব। এবং এগুলো ঠেকানোর মতো প্রযুক্তি নেই। সিনেমা হলে গোটা সিনেমা রেকর্ড করে তা বাজারে ছেড়ে দেওয়া যাবে, সেখানে স্বত্ব দাখিলের তো কোনও জায়গাই নেই বরং বিরাট ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে যা আইডেন্টিফাই করাও মুশকিল।"

গোপনে রেকর্ড করার বিরুদ্ধে কী আইন?

প্রযুক্তি বিষয়ক আইনজীবী ও ইন্টারনেট-কেন্দ্রিক নাগরিক অধিকার কর্মী মিশি চৌধুরী বিবিসিকে বলেছেন যে, "গোপনে এ ধরনের ভিডিও করলে তার শাস্তি কী হতে পারে তা নিয়ে ভারতে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।

তার মতে, "এটি অত্যন্ত অনৈতিক কাজ হলেও, আইন অনুযায়ী এটি স্পষ্টভাবে কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি।"

তিনি বলেন, ভিডিওতে রেকর্ড করা দৃশ্য অনুযায়ী তার ওপর ভিত্তি করে মানহানি, গোপনে অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখা বা সংরক্ষণ করে রাখা, স্টকিং এবং অপরাধমূলক হুমকির মতো অভিযোগ উঠতে পারে। কিন্তু জনবহুল জায়গায় গোপনে কারোও ভিডিও তুলে রাখলে তা কোনো আইনের আওতায় পড়বে, কিনা তা ভারতীয় আইনে বলা নেই।

ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে জটিলতা

গোপনে কারোও ভিডিও তোলা হয়ে থাকলে তা সামাজিক মাধ্যম থেকে সরানোও কঠিন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

হয়রানি বা উত্যক্ত করার বিষয়টিকে মেটা তাদের নিয়মে আপত্তিকর বলে মনে করেলেও ইনস্টাগ্রামে কোনো পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সময়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে সম্মতি ছাড়া ভিডিও তোলার মতো বিষয়গুলোতে অভিযোগ জানানোর জন্য কোনো আলাদা ক্যাটেগরি বা বিভাগ নেই।

এর ফলে ভুক্তভোগীদের বাধ্য হয়ে 'বুলিং অ্যান্ড হ্যারাসমেন্ট' বা উত্যক্তকরণ ও হয়রানি ক্যাটেগরির অধীনেই অভিযোগ জানাতে হয়।

বিদিশাকে নিয়ে তৈরি ভিডিওটি দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অনলাইনে ছিল এবং ২৫ লাখ বার দেখা হয়েছিল। তার বন্ধুরা ইনস্টাগ্রামের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে ভিডিওটি তাদের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে, কিন্তু তা সত্বেও ভিডিওটি প্লাটফর্ম থেকে সরানো হয়নি।

বিদিশা যখন পুলিশের দ্বারস্থ হন, ভিডিওটি যিনি তৈরি করেছিলেন পুলিশ তাকে সেই ভিডিওটি সরিয়ে নিতে বলায় তিনি সেই ভিডিওটি সরিয়ে নেন।

সুরক্ষা নিয়ে মেটার কী দাবি?

ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে যে, তাদের এআই চশমাগুলো তৈরির শুরু থেকেই গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

মেটার একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, "প্রতিটি চশমায় একটি রেকর্ডিং এলইডি লাইট বা বাতি রয়েছে। ছবি বা ভিডিও তোলার সময় এই বাতিটি জ্বলে-নেভে এবং এর উজ্জ্বলতা কম-বেশি হয়।"

তিনি জানিয়েছেন, "ছবি বা ভিডিওগুলো পরে সংরক্ষণ বা শেয়ার করা সম্ভব। এই বাতিটি বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কেউ যদি এটি ঢেকে দেয় বা নষ্ট করে ফেলে, তবে ক্যামেরাটি কাজ করা বন্ধ করে দেবে।"

জুলাই মাসে ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি বলেছিলেন, "কেউ যদি এমন কোনো ভিডিও পোস্ট করেন যার মাধ্যমে মানুষকে হেনস্তা বা অপদস্থ করা হয়, তবে আমরা তা সরিয়ে ফেলব। আমরা চাই না যে মানুষ গোপনে অন্যদের ভিডিও তুলে তাদের হেনস্তা করুক এবং তারপর সেই ভিডিওগুলো আমাদের প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করুক।"

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেটা দাবি করেছে যে, তারা "তাদের নিয়মলঙ্ঘনকারী হাজার হাজার ভিডিও এবং পোস্ট সরিয়ে ফেলেছে।"

তারা আরও জানিয়েছে যে, মেটা এ ধরনের ভিডিওর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুসন্ধানকারী শব্দ ও হ্যাশট্যাগ ব্লক করেছে যার মধ্যে 'রিজ', 'পিক-আপ আর্টিস্ট', 'কোল্ড অ্যাপ্রোচ' জাতীয় জেন-জিরা ব্যবহার করেন এমন শব্দও রয়েছে।