ভারতে প্রবেশ প্রায় বন্ধ, শেরপুর সীমান্তে আটকে পড়া হাতিগুলোর কী হবে?

- Author, মুকিমুল আহসান
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Reporting from, শেরপুর
- Published
- পড়ার সময়: ৮ মিনিট
কাঁটাতারের বেড়াসহ সৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতায় ভারতের সাথে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে আটকা পড়ে আছে ১৩০টির বেশি বন্য হাতি। ঘটনা কূটনীতির পর্যায় পর্যন্তও গড়িয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়টিতে ভারতের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে; কিন্তু মিলছে না কোনো সমাধান।
দেশ দুইটির সীমান্তের একপাশে ভারতের মেঘালয়, অন্যপাশে বাংলাদেশের শেরপুরসহ ময়মনসিংহ অঞ্চল। আর সীমান্তবর্তী এলাকার গারো পাহাড়ের বনে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ অংশে আটকা পড়ে আছে ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি।
বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুই দেশের মধ্যে হাতি চলাচলে ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়া পথ ছিল।
বছরের পর বছর ধরে এসব গেট ও জলপথ ব্যবহার করে দুই দেশেই বিচরণ করতো ক্রস বাউন্ডারি হাতিগুলো।
ময়মনসিংহের বন বিভাগ ও গবেষকরা বলছেন, সীমান্তের যে সব পথ দিয়ে হাতি চলাচল করতো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের মেঘালয় অংশের এমন বেশ কিছু জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া ও গেট নির্মাণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বন্য হাতি বিচরণের ভারতীয় বেশ কিছু জায়গায় দেশটির কৃষকরা কাজু বাদামের চাষাবাদ করেছে। ফলে সে সব জায়গায় হাতিগুলো যেতে পারছে না।
এর ফলে গত কয়েক বছর ধরে বেশিরভাগ হাতিই বাংলাদেশ অংশে আটকা পড়ে আছে। এবং দিন দিন এর পরিমাণও বাড়ছে।
বর্তমান বাস্তবতায় দুই দেশের ক্রস বাউন্ডারি এই হাতি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কূটনৈতিক পর্যায়েও গড়িয়েছে। বর্তমান সরকার, এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা ভারতকে জানিয়েছে।
বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এই হাতি চলাচল প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি নিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিকে জানিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ভারত উদ্যোগী না হলে এই সংকট সহজে কাটবে না।
প্রকৃতি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সংগঠন আইইউসিএন'র তথ্য বলছে, এই সীমান্তবর্তী এলাকায় মাত্র এক দশক আগেও ৫০টির মতো হাতির বিচরণ ছিল। বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০-১৩৫টিতে।
একদিকে ভারত অংশে যেমন হাতি চলাচল ও বিচরণ সংকুচিত হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ অংশেও বনের জায়গায় ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করছে কৃষকরা।
হাতি চলাচল বন্ধ ও ফসল বাঁচাতে এই সীমান্তবর্তী এলাকার শেরপুর, ময়মনসিংহ এলাকার অনেক ফসলি জমি ও বাড়িঘরের চারপাশে বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক সময় হাতি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

কেমন আছে গারো বনের হাতিরা?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশ- ভারত সীমান্তের শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলা। গাঢ়ো পাহাড়ের বিশাল জায়গাজুড়ে অপার সৌন্দর্য্যের এক বনভুমি।
শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার পানিহাটা সীমান্তে বড় একটি হাতির দল অবস্থান করছে এমন খবরে আমরা সেখানে যখন পৌছাই, তখন প্রায় বিকেল সাড়ে তিনটা।
শরতের আকাশে সূর্য্য তখন কিছুটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে।
হঠাৎ-ই গারো পাহাড়ে ঘন জঙ্গল থেকে খাবারের খোঁজে একটু ফাঁকা জায়গায় নেমে আসতে দেখা গেলো একদল বন্য হাতিকে। ছোট, বড়, মাঝারি, এক সাথে অন্তত ২২টি হাতি কাঁদা পানিতে শুরু করলো খুনসুটি।
মা হাতিটা বাচ্চাকে সাথে নিয়ে পানি খাওয়াতে ব্যস্ত। কোনো কোনো শাবক তখন মনের আনন্দে গায়ে ছিটাচ্ছিল ধুলোমাটি।
শাবকদের গায়ের রং বয়স্ক হাতির থেকে একটু আলাদা। শাবকদের সংবেদনশীল ত্বক। তাই পোকামাকড়ের কামড় আর রোদের তাপ থেকে বাঁচতে হাতি শাবকদের অনেক সময়ে গায়ে ধুলোবালি মাখতেও দেখা যায়।
ময়মনসিংহ শেরপুরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল বন্য এশীয় হাতির বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল বহু বছর আগে থেকেই।
এই হাতিগুলো মূলত বাংলাদেশ- ভারত দুই দেশেই বিচরণ করতো বলে সেগুলোকে বলা হতো 'ক্রস বাউন্ডারি এলিফ্যান্ট'।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে হাতিরা দীর্ঘ সময় ধরে বাচ্চা বা শাকবদের দেখভাল করে থাকে। এই হাতিদের দলেও মা হাতিদের দেখা গেলো বাচ্চাদের পরম যত্নে আগলে রাখতে।
বাংলাদেশের বন বিভাগ ও গবেষকরা বলছেন, এই হাতিগুলো বেশিরভাগ সময়ই ভারত অংশেই থাকতো। বছরে অন্তত দুইবার বাংলাদেশ অংশে আসতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হাতিগুলোকে বছরজুড়ে বাংলাদেশ অংশেই বিচরণ করতে দেখছেন বাংলাদেশের বনবিভাগ ও হাতি গবেষকরা।
তাদের মতে, এই হাতিগুলো বাংলাদেশ অংশে আটকা পড়েছে। যে কারণে তারা আর ভারত যেতে পারছে না।
ওই এলাকায় হাতিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও হাতির সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে একটি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমও করা হয়েছে।
বনের ভেতরে ছোট ছোট কিছু নালায় সামান্য কিছু পানির দেখা মিললেও খাবারের সংকট যে রয়েছে, তা স্পষ্ট হয় যখন আমরা দেখতে পাই হাতির দলটি আকাশমণি গাছের বাকল ছিঁড়ে খাচ্ছে।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এশীয় বন্য হাতি প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং সমপরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। সেটি সংগ্রহ করতে হাতিকে প্রতিদিন অনেক বেশি বিচরণ করতে হয়"।
তার ভাষ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে বনে হাতির খাবার কমে যায়, তখনই হাতির দল জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে। সেই চিত্র দেখা গেলো পানিহাটা সীমান্তে বিচরণ করা এই হাতিগুলোর ক্ষেত্রেও।
সন্ধ্যার ঠিক আগেই এই হাতির দলকে সীমান্তের ঘন জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে নেমে আসতে দেখা যায়।

ছবির উৎস, ABU HANIF
হাতি আর মানুষের দ্বন্দ্ব কেন?
এই অঞ্চলের জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত গারো পাহাড়ের যে বন রয়েছে, সেখানে হাতিদের একটি অভয়ারণ্য অনেক আগে থেকেই ছিল।
সর্বশেষ ২০১৬ সালে শেরপুর ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাতি নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে আইইউসিএন। সেখানে তারা দেখতে পায় এই অঞ্চলে ৫১টি'র মতো হাতি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ অংশে বসবাস করছে।
দশ বছরে এই অঞ্চলে সেই হাতির পরিমাণ বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করছে আইইউসিএন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ির পানিহাটা সীমান্ত এলাকায় কৃষক মোস্তাক হোসেনের সাথে কথা হয়। তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, পানিহাটা সীমান্তের তালতলা এলাকায় তিনি ধানের আবাদ করেছেন। সন্ধ্যা নামলে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে হাতির আনাগোনা দেখা যায়। যে কারণে তিনি তার জমিতে তারের বেড়া দিয়েছেন, সেখানে একটি আধুনিক মেশিন লাগিয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগও দিয়েছেন।
এই বন্য এলাকার মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতে দেখা গেছে স্থানীয় কৃষকদের। আর ফসল পাহারায় ছোট ছোট টিলার ওপর বানানো হয়েছে খুপরি ঘর। আর প্রতিটি ক্ষেতের চারপাশে তারের বেড়া আর আধুনিক মেশিন বসিয়ে তাতে অবৈধভাবে দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক সংযোগ।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তের স্থানীয় কৃষক ইদ্রিস আলী বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "হাতির হাত থেকে বাঁচতে জমির তারে কারেন্টের লাইন দিছি। হাতি আসলে কারেন্টের সট খাইয়া দুরে সরে যায়। অনেক সময় হাতি তাড়াইতে পটকা ফুটাই, মশাল জ্বালাই, ভয় দেখাইলে হাতি আর বাসা বাড়ি ফসলের মাঠের দিকে আসে না"।
বাংলাদেশের বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফসলি জমির বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, গুলি কিংবা কখনো কখনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতেও হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

পানিহাটা সীমান্তে সন্ধ্যার কিছু আগে একদল হাতি যখন খাবারের খোঁজে আসছিল, তখন স্থানীয় কৃষকদের সেখানে জড়ো হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতিদের ধাওয়া করতেও দেখেছে বিবিসি বাংলা।
শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান, সন্ধ্যার পর কিংবা কখনো কখনো দিনের আলোতেও মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত দেখা দিচ্ছে। তারা এ নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টাও করছেন।
সন্ধ্যার পর মাইক, মশাল কিংবা পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর ঘটনা এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা।
আইইউসিএনএর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দীপু বিবিসি বাংলাকে বলেন, "গারো পাহাড়ের এই বন্য এলাকা ছিল এক সময় হাতিদের বিচরণ ক্ষেত্র। সেখানে ধীরে ধীরে ফসলি জমি বেড়েছে, গবাদিপশুর বিচরণ বেড়েছে, মানুষের বসতি বেড়েছে। এর ফলে ছোট হয়ে আসছে হাতিদের আবাসস্থল। যে কারণে মানুষ ও হাতিদের দ্বন্দ্ব সংঘাত বাড়ছে"।
মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমও দেখা গেছে। কিন্তু তারপরও এই সংকট তেমন একটা কমেনি বলেও মনে করছেন গবেষকরা।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "মানুষ যদি হাতিকে বিরক্ত না করে তাহলে হাতি মানুষের তেমন কোনো ক্ষতি করে না। বর্তমান সরকার এ জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই হাতিকে বিরক্ত করছে যার ফলে হাতি অনেক সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আক্রমণ করছে। কখনো কখনো মানুষও মারা যাচ্ছে"।
তিনি জানান, মানুষের প্রাণহানি কিংবা ফসলি জমির ক্ষতি করলে সঠিক তদন্ত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ দেয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সভা সেমিনার করেও মানুষকে হাতির ক্ষতি না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর

আটকাপড়া হাতিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিচরণকারী এই হাতিগুলো শুধু বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী নয়। দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসের কারণেই এদেরকে বলা হয় ক্রস বাউন্ডারি এলিফ্যান্ট।
শেরপুর–জামালপুরের হাতি নিয়ে আইইউসিএন এর গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়া ছিল বহু আগে থেকে। এসব গেট ও নদীর ছড়া দিয়ে এই হাতিগুলো চলাচল করতো দুই দেশের মধ্যে।
নালিতাবাড়ি বনবিভাগের মধুটিলা রেঞ্জের কর্মকর্তা আব্দুল করিম। দীর্ঘ বছর এই এলাকায় হাতিদের আচরণ গতিবিধি নিয়ে কাজ করছেন।
মি. করিম বিবিসি বাংলাকে জানান, সম্প্রতি বছরগুলোতে তারা দেখতে পেয়েছে, যে সব রাস্তা দিয়ে হাতিগুলো চলাচল করতো সেগুলো কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও গেট নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে হাতিগুলো সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে আটকা পড়েছে। সেগুলো আর ভারতে ফিরতে পারছে না।
তিনি বলছিলেন, "একদিকে যেমন কাঁটাতারের বেড়া দিছে, আবার ভারতের যে জায়গোগুলোতে গিয়ে হাতি বিচরণ করতো তার অনেক জায়গায় তারা কাজুবাদামের চাষ করছে। যে কারণে হাতি আর ওখানে যেতেও পারে না। খাবার পায় না। ফলে এই হাতিগুলো এখন বাংলাদেশেই থেকে যাচ্ছে"।
এই তথ্য বাংলাদেশের স্থানীয় বাসিন্দা, বনবিভাগের কর্মকর্তা এমনকি গবেষকদের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে।
গবেষক সারোয়ার আলম দীপু বলছিলেন, "যখন ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে তখন হাতি ওদিক আর যেতে পারছে না। কখনো কখনো নদীর 'প্যাঁচ' (নদী পথের গেট) দিয়ে যদিও বা কিছু হাতি যাচ্ছে তখন সেখানে গিয়ে তারা খাবার পাচ্ছে না"।
গবেষকরা বলছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কারণে হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ অংশে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
শেরপুর ময়মনসিংহ অঞ্চলে হাতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে একটা বড় সংকট তৈরি হয়েছে সেটি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে বাংলাদেশের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে সেটি নিয়ে উদ্বেগের কথা এরই মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে জানানো হয়েছে।
বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমরা একটা কথা ভারতকে বলেছি, সুন্দরবনের বাঘ তো দুই দেশেই যাতায়ত করছে। হাতির ক্ষেত্রেও আপনাদের এটা ওপেন করতে হবে; নাহলে এটি নিয়ে সংকট থেকে যাবে। আমরা আশা করছি তারা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে"।
এ নিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বনবিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে। তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক মেইল করা হলেও এখনো পর্যন্ত তারা এর জবাব দেয় নি।
গবেষকরা বলছেন, হাতির অবাধ চলাচল ও বিচরণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধান না হলে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি কয়েক বছরের মধ্যে আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।









