পত্রিকা: 'নতুন করদাতা খোঁজার বড় মিশনে নামছে সরকার'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ঘোষণা আসছে আজ বৃহস্পতিবার। রেকর্ড আকারের এই বাজেটের নানা খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে ঢাকার সংবাদপত্রগুলো। এর পাশাপাশি শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের খবরও রয়েছে পত্রিকাগুলোয়।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান খবর— Budget of big ambition; অর্থাৎ, উচ্চাভিলাষী বাজেট।

খবরটিতে বলা হয়েছে, প্রতি জুনেই বাংলাদেশে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হয়। আর প্রতিবছর তার কলেবরও বাড়তে থাকে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই ধারা।

হিসাবের দিকে তাকালে এবারও ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্নতা আছে; দুই দশক পর এবার বিএনপির পালা এসেছে।

বাজেট ঘোষণা, ঘাটতির ব্যাখ্যা কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা— সবটাই এবার বিএনপির দায়িত্ব। এটা একদিক থেকে যেমন বোঝা, তেমনি সুযোগও বটে।

আছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত, ব্যাংক খাতে সংকট, আইএমএফের সঙ্গে আসন্ন বোঝাপড়া— তারই মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রেকর্ড বাজেট ঘোষণা আসতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার, যার পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে এটি ১৯ শতাংশ বেশি।

বাস্তবতা বিবেচনায় মনে হচ্ছে, এই বাজেট বয়ে নেওয়া কঠিন। জিডিপির মাত্র ৭ শতাংশের মতো কর আদায় করেই বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম প্রবৃদ্ধির দেশ হয়েছে।

অথচ, এ দেশের কর আদায়ের হার ভারত, ভিয়েতনাম, এমনকি তুলনীয় সব দেশের চেয়ে কম। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই হার গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও এমন কোনো কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি, যাতে প্রয়োজনমতো ব্যয় করার সাধ্য দেশটির হয়। এটাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্তর্নিহিত বৈপরীত্য।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

এ লক্ষ্য অর্জনে করভিত্তি সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন করদাতা শনাক্ত ও করের আওতায় আনার বড় মিশন হাতে নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর অংশ হিসেবে ব্যবসায়-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হতে পারে।

তবে অনেক ক্ষেত্রে করছাড় ও বিশেষ সুবিধাও থাকছে।

জানা গেছে, সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের মাধ্যমে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

সঞ্চয়পত্রে দ্বিগুণ কর, কমছে রেয়াত— কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম এটি।

এই খবরে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রে দ্বিগুণ হারে কর বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আগামী বাজেটে।

এতে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের মালিককে তার সুদ আয়ের ওপর অন্তত ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আগে একই পরিমাণ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে তিনি ৫ শতাংশ হারে কর দিতেন।

সেই হিসাবে তাকে আগের তুলনায় দ্বিগুণ হারে কর দিতে হবে। বর্তমানে ১০ লাখ টাকার পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে মুনাফা পাওয়ার সময় মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হয়। এর চেয়ে বেশি অঙ্কের সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে উৎসে করের হার ১০ শতাংশ।

আয়কর আইন অনুযায়ী, পুরো অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা যে পরিমাণ টাকা মুনাফা হিসেবে পান, তা চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ এই মুনাফার ওপর আর কোনো কর দিতে হয় না।

নতুন বাজেটে মুনাফার ওপর আয় ক্রেতার চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। এই আয়ের ওপর আবার কর দিতে হবে তার নির্ধারিত আয়ের স্ল্যাব অনুযায়ী।

এই খবরে বলা হয়েছে, মধ্য-বামপন্থী বাজেট নীতির মূল দর্শন সামাজিক সমতা, সম্পদের পুনর্বণ্টন এবং নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদ। এতে সাধারণত সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শ্রম সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

যদিও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে মধ্য-বামপন্থী বাজেট নীতি বা সামাজিক কল্যাণমুখী দর্শনের বাস্তবায়ন বড় ধরনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়ে। একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, ভর্তুকি ও জনসেবা সম্প্রসারণের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাগিদ; অন্যদিকে সীমিত রাজস্ব, উচ্চ ঋণব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের আস্থার সংকট।

এ দুই বাস্তবতার সংঘাত বাজেট বাস্তবায়নকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়।

বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার পেশ হতে যাওয়া বিএনপি সরকারের মধ্য-বামপন্থী বাজেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আশঙ্কা থাকছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে নতুন বিধি যুক্তের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের অঙ্গীকার দেওয়ার যে বিধান যুক্তের প্রস্তাব করেছিলেন ইসির কর্মকর্তারা, সেটি বাদ দিয়েই এ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। একইভাবে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়াও অনুমোদন করেছে ইসি।

এসব নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া গতকাল বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতামত দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মতামত পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনে ইসি। ওই নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে অঙ্গীকারনামায় সই করার বিধান যুক্ত করা হয়।

প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর— ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসাল বাংলাদেশ ব্যাংক

খবরটিতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান নিয়োগের পর নানা বিতর্ক ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী ব্যাংকে এবার পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিরই নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্তটি জানিয়েছে। তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির সভায়ও অংশ নেবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে দেওয়া ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক মো. আশরাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, এর স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

দাই দাই উন্মাদনা— মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে এতে।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্বাগতিকদের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ছাব্বিশ বিশ্বকাপের।

খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই 'দাই দাই' উন্মাদনায় মাতছে গোটা বিশ্ব।

আজতেকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন পপ স্টার শাকিরা। সঙ্গে থাকছেন ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের থিম সং 'দাই দাই (চলো এগিয়ে)'-এর সহশিল্পী বার্না বয়।

এই অনুষ্ঠানে স্বদেশীয় সংস্কৃতি, আধুনিক লোকশিল্প এবং 'পাপেল পিকাডো' প্রদর্শিত হবে।

আয়োজক তিন দেশেই হবে পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহিকে দেখা যাবে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। এতে থাকবে বৃহৎ ভিজ্যুয়াল শো এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমার মতো প্রমুখ শিল্পীদের পারফরম্যান্স।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— প্রবাসীদের জন্য সংসদীয় টাস্কফোর্স করতে একমত সরকারি-বিরোধী দল

এই খবরে বলা হয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্য এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করেছে বিরোধী দল।

এই প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে সরকারি দল।

সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিরা গতকাল বুধবার সংসদ অধিবেশনে এক সুরে প্রবাসীদের সমস্যা তুলে ধরেন।

প্রবাসীদের ভোগান্তি লাঘব না হওয়ায় বিএনপির এমপিরা নিজ সরকারের সমালোচনা করেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আর যাতে সিন্ডিকেট না হয় , এ দাবি তোলেন।

সরকারের পক্ষে আশ্বাস দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী শ্রমবাজার খোলাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অতীতের মতো সিন্ডিকেট হবে না।

নিউ এইজের প্রথম পাতার খবর— Govt to offer 1.5pc incentive for bringing FDI: PM; অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনলে দেড় শতাংশ কমিশন দেবে সরকার।

খবরটিতে বলা হয়েছে, দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ নিয়ে আসা যেকোনো ব্যক্তি, তিনি যেই দেশেরই নাগরিক হোক, দেড় শতাংশ কনসালটেন্সি ফি বা কমিশন পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জোহরাত আদিব চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সম্প্রতি একটি বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

এই খবরে বলা হয়েছে, ভারতের নয়াদিল্লিতে বিএসএফ সদর দফতরে যখন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে টেবিল বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিপরীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনসাধারণ পুশইনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার সীমান্ত সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। তবে আলোচনা তেমন ফলপ্রসূ হয়নি।

বিশেষ করে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার বিষয়সহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হলেও গতকাল পুশইনের চেষ্টার কারণে সীমান্ত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশকে আজ শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।