আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মানহীন আট পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ, বাজারের বাকি পণ্য কি নিরাপদ?
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা 'বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন' (বিএসটিআই)।
সংস্থাটি বলছে, অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ও ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি রয়েছে পণ্যগুলোতে।
তাই, জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ওইসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমনকি, ওই পণ্যগুলোকে বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
যে চার কোম্পানির পণ্য এই তালিকায় আছে, সেগুলো হলো– ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেস, কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেড, ডেকো ফুডস লিমিটেড।
এসব কোম্পানির জুস, শ্যাম্পু, আইসক্রিম, লোশনসহ আট ধরনের পণ্যের জন্য এই নির্দেশনা এসেছে। এর আগে, গত সপ্তাহেও মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলো বিএসটিআই।
২০১৯ সালে বহুল বিক্রিত কয়েকটি ব্রান্ডের লবন, মসলা এবং তেলসহ ৫২ ধরনের পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছি সংস্থাটি।
বিএসটিআই নিয়মিতই এরকম বিভিন্ন পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। তবে প্রতিবারই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, অনুমোদন পাওয়ার পরও কীভাবে কোনো পণ্য মান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়? আর সেইসাথে, বাজারে থাকা একই ধরনের বাকি পণ্যগুলোর তাহলে কী অবস্থা?
কোনগুলো প্রত্যাহারের আদেশ এসেছে, কেন?
বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেস-এর আমের আচারে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ (সংরক্ষণকারী রাসায়নিক) পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশে বেশ সুপরিচিত কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড উৎপাদিত বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমকেও বাজার থেকে তুলে নিতে বলা হয়েছে।
কারণ এই আইসক্রিমের একটি ব্যাচে বাংলাদেশ মানদণ্ডে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি মিল্ক সলিড নট-ফ্যাট (দুধের চর্বিবিহীন কঠিন উপাদান) পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া, অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিঙ্গা+মাচা ফোমিং মিল্ক ও তুলসী এবং লোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে পরীক্ষাগারে ।
অন্যদিকে, ডেকো ফুডস লিমিটেড-এর ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানমাত্রার চেয়ে ভিটামিন 'সি' কম পাওয়ার কারণে এগুলোকেও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের পরিচালক মো. আলাউদ্দিন হুসাইন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আজ ও কাল সময় দেওয়া হয়েছে। এর মাঝে তারা তাদের সরবরাহকৃত মালামাল দোকান থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে যেতে হবে।"
"তারা সরিয়ে না নিলে আইনগত ব্যবস্থায় যাবো। জেল-জরিমানা করা হবে।"
নির্দেশনা অমান্য করলে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা, জরিমানা ও কারাদণ্ডসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই ৮টি পণ্য কীভাবে বাছাই করা হয়েছে?
যে আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে, একই ধরনের আরও অসংখ্য পণ্য বর্তমানে দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তাহলে কেন শুধু এই আটটি?
এ বিষয়ে বিএসটিআই'র মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান নয়। বরং নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এলোমেলোভাবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি দিয়েই তো শুরু করতে হবে। আমরা আগেও করেছি, এখন আটটি পণ্য নিলাম। এগুলো র্যান্ডম স্যাম্পলিং। অভিযোগ তো আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত আসে। সেই অভিযোগগুলোকে আমরা বিশ্লেষণ করি, দেখি যে কতটা যৌক্তিকতা আছে সেগুলোর।"
তার মতে, "র্যান্ডম স্যাম্পলিং করাটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।"
"বেছে বেছে আলাদা করে টার্গেট করছি, এরকম না। আমরা র্যান্ডম স্যাম্পলিং-এর টেস্ট করছি। র্যান্ডম স্যাম্পলিং আমাদের রেগুলার প্রসেস। দেখা গেল ৫০টি আইটেম টেস্ট করেছি এবং তাতে অনেকগুলো আইটেম ঠিক আছে। যেগুলো ঠিক নাই, সেগুলোকে শুধু চিহ্নিত করেছি।"
"আমরা প্রায়ই মার্কেট থেকে এটা-ওটা সংগ্রহ করি এবং দেখি যে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সেগুলো ঠিক আছে কিনা। ঠিক না থাকলে বাতিল করি," আরও বলেন তিনি।
তাহলে বাজারে একই ধরনের আরও যেসব পণ্য আছে, সেগুলো কি নিরাপদ?
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, "বাজারে থাকা অন্য পণ্যগুলো নিরাপদ কি না, তা নিয়ে এখন সংশয় থাকা স্বাভাবিক। কিছু উৎপাদক ও সরবরাহকারীর অনিয়মের কারণে সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।"
অন্য পণ্য নিরাপদ কিনা, তা নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না জানালেও মি. হক বলেন, "এটা স্টাডি হবে, এটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। হয়তো কিছুদিন পর শুনবেন, আরও পণ্য প্রত্যাহার হচ্ছে।"
পুনঃপরীক্ষা আছে, তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই
এই দফায় যেসব পণ্য এখন বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যান্য পণ্যের মতো এগুলোও একসময় বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই বাজারে এসেছিল।
তাহলে পরে কীভাবে মানের ঘাটতি ধরা পড়লো এবং ওই পণ্য কীভাবে অনুমোদন পেল?
এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, লাইসেন্স দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ পরীক্ষা করা হয়। সেই ব্যাচে সব মানদণ্ড পূরণ করলেই প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচ একই মান বজায় রাখছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ফলো-আপ পরীক্ষা চালানো হয়।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশে একটি জাতীয় সমস্যা আছে। ধরুন, একটি কোম্পানি একবারে ১০ হাজার পিস চকলেট তৈরি করলো, পরে আরেকটি ব্যাচে ২০ হাজার বা ৩০ হাজার পিস করলো। আমরা হয়তো ওই আইটেমের একটি ব্যাচ পরীক্ষা করেছি এবং তাতে তারা পাশ করেছে।"
"লাইসেন্স দেওয়ার সময় আমরা সব প্যারামিটার পরীক্ষা করি। সবগুলোতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই লাইসেন্স দেওয়া হয়। এখন লাইসেন্স পাওয়ার পর যদি পরবর্তী ব্যাচগুলোতে তারা স্ট্যান্ডার্ড থেকে বিচ্যুত হয়, তখনই সে ফেল করে (পরীক্ষায় ধরা পড়া)," যোগ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক এই আটটি পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশও এমন একটি "ফলো-আপ এক্স্যামিনেশন।"
'ফলো-আপ এক্স্যামিনেশন' কতদিন পরপর হয়? জানতে চাওয়া হয় তার কাছে।
তিনি বলেন, "হাজার হাজার পণ্য, কোনো নির্দিষ্ট একটি পণ্যকে আমি বলতে পারছি না যে এক মাস পরে, বা ছয় মাস পরে। আর বিএসটিআই একটি ছোট অর্গানাইজেশন। ম্যানপাওয়ার অতিরিক্ত কম। ৬৪ জেলার মাঝে মাত্র ২০টি জেলায় অফিস আছে। সুতরাং, সারাদিনের মাঝে যতটুকু সাধ্য আছে, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করি।"
বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের পরিচালক মো. আলাউদ্দিন হুসাইনও বলেন, সংস্থাটি সময়ে সময়েই নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে।
তিনি বলেন, "লাইসেন্সের শর্তেই উল্লেখ আছে যে বিএসটিআই বছরে একাধিকবার আপনার কারখানা, শোরুম অথবা খোলা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পারবে। পণ্য নিম্নমানের হলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।"
প্রত্যাহারের নির্দেশ বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?
বিএসটিআই জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত নমুনা পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু নিরাপদ খাদ্য নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের মতে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা কঠিন।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুব কবীর মিলন বিবিসি বাংলাকে বলেন, রিকল বা প্রত্যাহার বিশ্বব্যাপী একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা।
"কারণ কোনো পণ্য বাজারে চলে যাওয়ার পর মানুষ সেটি কিনে খেতে শুরু করে। তাই শুধু কারখানা বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়, সেই পণ্যও বাজার থেকে তুলে আনতে হয়।"
তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষায়, "আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থা, জনসংখ্যা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে দোকান থেকে দোকানে গিয়ে ওই পণ্য ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। আমার ধারণা, এক শতাংশ পণ্যও রিকল হবে না। বেশিরভাগ পণ্য মানুষের কাছে বিক্রি হয়ে খাওয়ার মাধ্যমেই শেষ হয়ে যাবে।"
মাহবুব কবীর মিলনের মতে, উন্নত দেশগুলোতে রিকল বা প্রত্যাহার কার্যকর হয়, কারণ সেখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপ আইনগতভাবে নিবন্ধিত।
ফলে কোনো পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ এলে সেটি দ্রুত বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়।
"বাংলাদেশে সেই সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই শুধু প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেই বাস্তবে সব পণ্য বাজার থেকে সরানো সম্ভব হয় না," বলেন তিনি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমও বলেন যে প্রত্যাহারের কোনো "কার্যকর আইনগত বাস্তবায়ন" নেই।
তবে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, "নিষিদ্ধ বলেই তো প্রত্যাহার। দোকানে থাকলেই তো গ্রাহক কিনতে চাইবে। দোকানদারের উচিৎ হলো এটিকে সরিয়ে ফেলা। আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। পাইকারি থেকে খুচরা বিক্রেতা, তারা জেনেছে। আর আমাদের যে সীমিত ওয়ার্কফোর্স আছে, তাদের দ্বারা আমরা নজরদারি করবো।"
"আপাতত এভাবেই চলবে। একটি ইলিগ্যাল আইটেম মার্কেটে আছে, সেটি বিক্রির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটিই সবচেয়ে বড় কথা। জনগণও জানতে পারলো। এভাবেই আগাতে হবে। প্রত্যেক ঘরে-ঘরে আনাচে-কানাচে গিয়ে প্রত্যাহার করা সম্ভব না।"
নিয়মিত নজরদারির ঘাটতিই কি মূল সমস্যা?
তবে খাদ্য নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অনিয়ম ধরা পড়ার পর পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাজারে থাকা পণ্যের নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা ও নজরদারি, যাতে অনিয়ম শুরুতেই শনাক্ত করা যায়।
এম শামসুল আলমের প্রশ্ন, "যারা এনফোর্সিং এজেন্সি, তাদের সমস্যা। যে পণ্য ছাড়পত্র নিয়ে বাজারে এসেছে, সেটির গুণগত মান যে বদলে গেছে, তা এতদিন পরে তারা কেন দেখেছে?"
মাহবুব কবীর মিলনও বলেন, "লাইসেন্স দেওয়ার পরে তারা কী পণ্য বানাচ্ছে, তা নিয়মিত দেখার ম্যান্ডেট বিএসটিআই'র। রেগুলার সেগুলো পরীক্ষা করার কথা। এটাই সবচেয়ে কার্যকরী টুল। এটা এক মাসেও করতে পারে, ছয় মাসেও করতে পারে। কিন্তু তারা পরীক্ষা করে কালেভদ্রে ।"
প্রত্যাহারের আদেশ পাওয়া পণ্যগুলোর মাঝে অতিরিক্তি প্রিজারভেটিভস ও অনুজীব পাওয়ার কথা বলেছে বিএসটিআই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "ধরা যাক, একটি কেকের মেয়াদ থাকে মেয়াদ দুই মাস, তিন মাস, ছয় মাস। কিসের ভিত্তিতে এই মেয়াদ দিলো? প্রিজারভেটিভ না দিলে এতদিন কীভাবে থাকে একটা পণ্য? এই প্রশ্ন তারা শুরুতে কেন করে না?"
তার মতে, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দায়িত্ব বণ্টনের কাঠামোতেও একটি জটিলতা রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণত একটি সংস্থাই খাদ্যপণ্যের মান (স্ট্যান্ডার্ড) এবং নিরাপত্তা (সেফটি) তদারকি করে। কিন্তু বাংলাদেশে এই দায়িত্ব দু'টি আলাদা সংস্থার। বিএসটিআই ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ফলে সমন্বয়ে সমস্যা তৈরি হয়।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পণ্য অনুমোদন বা লাইসেন্স দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা নেই। এ কাজ করে বিএসটিআই। তবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি করা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারকে নীতিগত পরামর্শ দেওয়া।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, "নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চাইলে বিএসটিআইকে এখন বলতে পারে যে আপনারা আটটি পণ্য পরীক্ষা করেছেন, একই ধরনের অন্য পণ্যগুলো কেন পরীক্ষা করা হচ্ছে না? এ ধরনের বিষয়ে তারা সরকারের কাছেও সুপারিশ করতে পারে।"