যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া ভিডিও নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কতা

কমালা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কমালা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে হঠাৎ করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভুয়া ভিডিও সম্পর্কে সতর্ক করেছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই।

সংস্থাটি বলেছে, ওই ভিডিওগুলোর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা এর আগেও এ বিষয়ে অনেকবার সতর্ক করেছেন।

বিবিসি ভেরিফাই প্রমাণ পেয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন শত শত ভুয়া ভিডিও তৈরি হয়েছে, যার উৎস রাশিয়া।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এলেই রাশিয়ার ‘হস্তক্ষেপ’ কিংবা এ ধরণের অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

বিশেষ করে, ২০১৬ সালের এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে এ ধরনের তথ্য বেশি আলোচনায় এসেছিলো।

এবারেও নির্বাচনকে সামনে রেখেও ‘রুশ তৎপরতা’র কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা গুলো।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভুয়া ভিডিও নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কতা

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ভুয়া ভিডিও নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কতা

কী আছে ভিডিওতে?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ শনিবার এফবিআই বলেছে, দুটি ভিডিও- ব্যালট প্রতারণা এবং ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী কমালা হ্যারিসের স্বামী ডাগ এমহফকে নিয়ে নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।

ভুয়া ওই দুটি ভিডিও দেখে মনে হবে এগুলো এফবিআই বানিয়েছে।

ভিডিওর সাথে সংস্থাটির লোগো জুড়ে দেয়া হয়েছে। তবে এটি এক্স এ বেশী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি বা খুব বেশী মানুষ এটি দেখেনি।

“এসব ভিডিও অথেনটিক নয়, এফবিআই এগুলো করেনি এবং এগুলোতে মিথ্যা বলা হয়েছে,” এফবিআই এক বিবৃতিতে বলেছে।

“এফবিআই কার্যক্রম নিয়ে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করে মানুষের সাথে প্রতারণার চেষ্টা হলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হেয় করার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবিশ্বাস তৈরি করা,” বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

এফবিআই যেভাবে ভিডিওগুলোর কনটেন্টের বর্ণনা দিয়েছে, তার সাথে এর আগে বছরের শুরুতে বিবিসি ভেরিফাই যে তিনশর মতো ভিডিও পেয়েছিলো তার মিল আছে।

একটি অনলাইন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তখন এসব ভিডিও পাওয়া গিয়েছিলো।

ভিডিওতে বিশ্বাসযোগ্য করে গ্রাফিক্স উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া টেক্সটগুলো দেখে মনে হবে, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বিবিসি, ফ্রান্স ২৪ ও ফক্স নিউজসহ অন্তত পঞ্চাশটি সংবাদ মাধ্যম থেকে নেয়া।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশানরা হ্যাকিং-এর চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানিয়েছিলো একজন মার্কিন কর্মকর্তা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশানরা হ্যাকিং-এর চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানিয়েছিলো একজন মার্কিন কর্মকর্তা

গত কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই অনলাইনে ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে এটা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে জোর দিয়ে।

এতে মিজ হ্যারিস সম্পর্কে মিথ্যা দাবি ও বিশৃঙ্খলা এবং ‘গৃহযুদ্ধ’ সম্পর্কে বার্তা দেয়া হচ্ছে।

চেকফার্স্ট, ফিনল্যান্ড ভিত্তিক একটি অনলাইন অ্যানালিটিকাল কোম্পানি ওই ভিডিও গুলোর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করেছে।

তারা দেখেছে যে এর পেছনে আছে একটি রুশ মার্কেটিং এজেন্সি ও একটি রুশ আইপি এড্রেস।

“আমরা এর সাথে রাশিয়ার যোগসূত্র করতে পারি এবং কিছু বিষয় থেকে আমরা জানতে পারি যে এগুলো তৈরি করেছে রুশ একটি কোম্পানি,” বলছিলেন চেকফার্স্টের প্রধান নির্বাহী গুইলাউমে কুস্টার।

“প্রমাণের আরেকটি সূত্র হলো ডেটা সেট। সেখানে প্রবেশ করে আমরা প্রমাণ পাই যে যেখান থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে সেটিও রাশিয়ায়”।

এর সাথে যে ভিডিও তৈরি করা হয়েছে সেগুলো ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে রাশিয়ান ভাষার টেলিগ্রাম চ্যানেলে।

চেকফার্স্ট যে স্টাইল, বার্তা ও থিম ভিডিওর সাথে পেয়েছে সেটি ক্রেমলিনের সাথে যোগসূত্র আছে এমন আরেকটি কার্যক্রমের সাথে মেলে বলে বিবিসি ভেরিফাই গবেষণা সমর্থিত একটি ধারণা।

তবে এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে কারা ওই কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এটি রাশিয়ার সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত কি-না।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ

ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ তার দেশের বিরুদ্ধে সেটি ‘ভিত্তিহীন’।

“রাশিয়ার কৌশলের দিকে যত ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে তা একটি অপবাদ, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির লড়াইয়ে ব্যবহারের জন্য তৈরি”।

এক্স-এর হিসেব অনুযায়ী ওই ভিডিও ক্লিপ দেখা হয়ে লাখ লাখ বার। তবে যারা পোস্ট করেছে তাদের অনুসারী কম এবং অল্প মানুষই তাতে কমেন্ট করেছে। কিছু ‘বট’ অ্যাকাউন্ট থেকেও এটি দেখা হচ্ছে বলে বোঝা যায়।

এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এর বাইরেও তারা সাম্প্রতিক রাশিয়ার সাথে যোগসূত্র আছে এমন প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সংস্থা – এফবিআই, অফিস অফ দা ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইনটিলিজেন্স এবং দা সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি একটি ভাইরাল ভিডিও মন্তব্য করে বলেছে এতে হাইতি থেকে আসা একজন ভোট দিয়েছে এমন একটি মিথ্যা বর্ণনা দেয়া হয়েছে এবং এটি ‘রাশিয়া প্রভাবিত লোকজন’ তৈরি করেছে।

গত সপ্তাহে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলেছে একটি ভিডিও দেখানো হয়েছে যে নির্বাচনী কর্মী মেইলে আসা ব্যালট ধ্বংস করছে যেগুলোতে পেনসিলভানিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেয়া হয়েছে বলে বোঝানো হয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে এগুলো রাশিয়ানদের তৈরি ও প্রচার করা।